Nishi’s Story - a little true story .
ইচ্ছে করলে-
(একটি ছোট গল্প)
আমি সায়েম।আজ আমার মামাতো ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হলো। আমার ওপর পড়ল হলুদের কেনাকাটা আর বিয়ের কার্ড ছাপানোর দায়িত্ব।
রাতে ভাইয়ার কাছ থেকে ভাবীর ছবি দেখলাম। কেন জানি ছবিটা মনে ধরল। যেন কোথাও একটা টান অনুভব করলাম।
হলুদের দিন ভাবীদের বাড়িতে গেলাম। ভাবীকে সামনে দেখে অবাক হয়ে গেলাম—ছবির চেয়েও তিনি অনেক বেশি সুন্দর! প্রাণবন্ত, মিশুক—তার সঙ্গে সেদিনই বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
বিয়ের দিনটাও দারুণ কেটেছিল। বরের পোশাকে ভাবীর সঙ্গে ছবি তোলা, তার হাতে ভাত খাওয়া—সবকিছুই মনে দাগ কাটল।
সময় দ্রুত চলে গেল। কলেজ শেষ হলো, উচ্চশিক্ষা আর চাকরির সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তবু ভাবীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়ে গেল, বরং আরও দৃঢ় হলো।
এক অদ্ভুত অনুভূতি
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ। ছুটির দিনে ভাবীর বাসায় বেড়াতে গেলাম। দরজায় কড়া নাড়তেই তিনি খুললেন। ভেজা শাড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রথমবারের মতো এক অন্যরকম অনুভূতি মনে ঝড় তুলল।
ভাবী বললেন,
— "তুমি বসো, আমি গোসল করে আসি।"
আমি রুমে গিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে লাগলাম। কিন্তু মনের ভেতর চলতে থাকল অন্য এক যুদ্ধ। সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বুঝতে পারলাম—আমি ওর প্রেমে পড়ে গেছি!
নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম—এ অসম্ভব। সে তো অন্যের ঘরণী, দুই সন্তানের মা! তাছাড়া সমাজ? কিন্তু তবু মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে পারলাম না। ভাবীকে না জানিয়েই, ওর অজান্তে, জীবনের প্রথম ভালোবাসা দিলাম তাকে।
ভালোবাসার গোপন যুদ্ধ
কেটে গেল পাঁচ বছর। এর মাঝে ভাইয়া বিদেশ চলে গেলেন, আর ভাবীর সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গভীর হলো।
অনেকবার বলতে চেয়েছি, কিন্তু ভয় পেয়েছি। যারা ভালোবেসে মুখ ফুটে বলতে পারে না, তারাই জানে এই কষ্টের তীব্রতা। অবশেষে একদিন সাহস করে বলে ফেললাম—
— "আমি তোমাকে ভালোবাসি!"
ভাবী অবাক হয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন,
— "একটু ভেবে নিই।"
পরদিন তিনি জানিয়ে দিলেন—"না!"
শূন্যতায় ডুবে গেলাম। জানতাম, এটা সম্ভব নয়। কিন্তু মন কি বোঝে?
এরপর আমাদের মাঝে মান-অভিমান, কথা কাটাকাটি চলতে লাগল। একদিন ভাবীকে বললাম,
— "আমার মায়ের কসম, তোমাকে না পেলে কোনোদিন বিয়ে করব না।"
নিঃশব্দ প্রতীক্ষা
পরিবার আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু আমি কথা দিয়েছি, কাউকে কিছু বলতে পারি না, আবার ওকেও ভুলতে পারছি না। কিভাবে বেঁচে আছি, সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানে না।
ভাইয়া বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর ভাবীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলাম। তবু ওকে ভালোবাসি!
ইচ্ছে করলে ওর জীবনটা নষ্ট করে দিতে পারতাম। কিন্তু পারিনি—কারণ ওকে ভালোবাসি।
জানি না, এই ভালোবাসার কষ্ট আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে...
— ধন্যবাদ
the midnightcrow77.blogspot.com
মন্তব্যসমূহ