Nishi’s Story - a little true story .
( একটি ছোট্ট গল্প )
হৃদয়ের ঝড়-
২০০৯। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলা চলছে।
ফয়সাল, চমন আর স্বপন অনেকদিন ধরেই চাপ দিচ্ছিল— "চল, একদিন বইমেলায় যাই!
অবশেষে, তাদের অনুরোধ ফেলতে পারলাম না। জীবনে প্রথমবারের মতো বইমেলায় গেলাম।
মেলায় ঢুকতে এক ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। কিন্তু মেলার ভেতরে ঢুকেই সব ক্লান্তি উধাও! চারপাশে শুধু বই আর বই। যেন এক স্বপ্নরাজ্য! নানা রঙের প্রচ্ছদ, নতুন বইয়ের গন্ধ, উচ্ছ্বাসে ভরা মানুষ—সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি। কয়েকটা বই কিনেও ফেললাম।
চোঁখে চোঁখ পড়ার গল্প
বইয়ের স্টলে স্টলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। হঠাৎ চোঁখ আটকে গেল!
একটা মেয়ে।
সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি অবাক!
সেও চোখ সরাচ্ছে না। আমিও পারলাম না।
কালো রঙের পোশাকে তাকে দারুণ লাগছিল। এলোমেলো চুলগুলো বারবার মুখে পড়ছিল, আর সে হাত দিয়ে সরাচ্ছিল। কপালের উজ্জ্বলতা যেন বাড়িয়ে দিচ্ছিল তার সৌন্দর্য।
অজান্তেই তার পিছু নিতে থাকলাম। অদ্ভুত এক টান অনুভব করছিলাম। মাঝে মাঝে সে পেছনে ফিরে তাকাচ্ছিল। যেন আমাকেই খুঁজছে! সময়ের হিসেব ছিল না, কখন যে তিন ঘণ্টা কেটে গেছে, বুঝতেই পারিনি।
প্রথম কথা
মনের মধ্যে একটাই ইচ্ছা—কোনোভাবে তার সঙ্গে কথা বলা।
কিন্তু কিভাবে?
একটা বই কিনে রাখলাম, শুধু তার জন্য। যদি সুযোগ পাই, তাকে উপহার দেবো।
অবশেষে, একটা মুহূর্ত এলো। সে একটু একা দাঁড়িয়েছিল। সাহস করে কাছে গিয়ে বললাম—
"এই যে, শুনুন..."
সে চমকে উঠল! দৌড়ে পালাতে চাইল!
আমি দ্রুত সামনে দাঁড়িয়ে বইটা বাড়িয়ে দিলাম—
"এটা আপনার জন্য!"
সে বিস্মিত হয়ে বলল, "মানে?"
কোনো উত্তর না দিয়েই বইটা হাতে তুলে দিলাম।
কিন্তু...
সে বইটা না নিয়েই চলে গেল!
দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
হঠাৎ চমন এসে বলল—
"কী মামা, ছ্যাকা খাইলা নাকি?"
আমি চুপ। মনে মনে শুধু একটা কথাই ভাবছিলাম—
মেয়েরা এত অদ্ভুত কেন?
শেষ অধ্যায়
তার জন্য কেনা বইটা যত্ন করে রেখে দিলাম।
হয়তো কোনো একদিন...
কোনো এক মেলায়...
সেই মেয়েটির হাতে তুলে দেব।
---
Themidnightcrow77.blogspot.com
মন্তব্যসমূহ