Nishi’s Story - a little true story .
সমাজসেবা অধিদফতর
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১০ আগষ্ট
বয়স্ক ভাতা-
দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম ও অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে , পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১২ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। পরবর্তী সময়ে,দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশন এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গিকার হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে বয়স্কভাতা ভোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ক্ষমতা গ্রহণোত্তর ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বয়স্কভাতা ভোগীর সংখ্যা ২২ লক্ষ জন থেকে বৃদ্ধি করে ২৬ লক্ষ ৫০ হাজার জনে এবং জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ১০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৫৭ লক্ষ ০১ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হবে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৫৫৫.৫৪ কোটি টাকা।
বর্তমানে বয়স্কভাতা কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো; ২০১৩ সালে প্রণীত বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, অধিক সংখ্যক মহিলাকে ভাতা কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে মহিলাদের বয়স ৬৫ বছর থেকে কমিয়ে ৬২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডাটাবেইজ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ১০ টাকার বিনিময়ে - ভাতাভোগীদের নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
২০১৭-২০১৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আংশিক এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে সকল উপকারভোগীকে মাসিক ভাতা মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ, বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।
বাস্তবায়নকারী দফতর:
সমাজসেবা অধিদফতর
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
(১) বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান;
(২) পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি;
(৩) আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে তাঁদের মনোবল জোরদারকরণ;
(৪) চিকিৎসা ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
প্রার্থী নির্বাচনের মানদন্ড:
(ক) নাগরিকত্ব: প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
(খ) বয়স: সর্বোচ্চ বয়স্ক ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।
(গ) স্বাস্থ্যগত অবস্থা: যিনি শারীরিকভাবে অক্ষম অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপে কর্মক্ষমতাহীন তাঁকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(ঘ) সামাজিক অবস্থা:
(১) আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে: নিঃস্ব, উদ্বাস্ত্ত ও ভূমিহীনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(২) সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে: বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, নিঃসন্তান, বিপত্নীক,পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(ঙ) ভূমির মালিকানা: ভূমিহীন ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে বসতবাড়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম হলে তিনি ভূমিহীন বলে গণ্য হবেন।
ভাতা প্রাপ্তির যোগ্যতা ও শর্তাবলী
(১) সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
(২) জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচিতি নম্বর থাকতে হবে ।
(৩) বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬৫ বছর এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬২ বছর হতে হবে।
সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত বয়স বিবেচনায় নিতে হবে;
(৪) প্রার্থীর বার্ষিক গড় আয় অনূর্ধ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা হতে হবে;
(৫) বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে।
ভাতা প্রাপ্তির অযোগ্যতা-
(১) সরকারি কর্মচারী পেনশনভোগী হলে ।
(২) দুঃস্থ মহিলা হিসেবে ভিজিডি কার্ডধারী হলে ।
(৩) অন্য কোনোভাবে নিয়মিত সরকারী অনুদান/ভাতা প্রাপ্ত হলে ।
(৪) কোনো বেসরকারি সংস্থা/সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হতে নিয়মিতভাবে আর্থিক অনুদান/ভাতা প্রাপ্ত হলে।
pdf বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম |
সেবা প্রাপ্তির সময় (সাধারণত)
সেবা প্রাপ্তির স্থান
সকল উপজেলা/শহর সমাজসেবা অফিস
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১. নির্ধারিত ফরমে আবেদন
২. ইউপি চেয়ারম্যান/সদস্য কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র
৩. পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৪. জাতীয় পরিচয়পত্র/নাগরিকত্ব সনদ (ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/মেম্বার কর্তৃক সত্যায়িত)
১. বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা
২. সরকারি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সেবা গ্রহণ করে থাকলে এ সেবা পাবেন না।
৩. পেনশনারী ব্যক্তি এ সেবা পাবেন না।
সেবা প্রদানে ব্যর্থ হলে প্রতিকারকারী কর্মকর্তা
১. উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২. উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা অফিস ৩. জেলা প্রশাসক ৪. পরিচালক (কার্যক্রম) ৫. মহাপরিচালক
বয়স্ক ভাতা হচ্ছে সরকারের একটি কর্মসূচি যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে বয়স্ক, দুস্থ, কর্মহীন ও স্বল্প আয়ের লোকেদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।
বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে, নির্দিষ্ট বয়সসীমা অনুসরণ করতে হবে।
বর্তমান সময়ে বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। শুধু কম্পিউটার নয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়। তাই মানুষ ঘরে বসেই আবেদন করতে পারেন। এতে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে গেছে।
pdf ডাউনলোড করে সঠিকভাবে সমস্ত ঘর পূরণ করুন।
বয়স্ক ভাতা আবেদন ফরম প্রিন্ট করুন
বয়স্ক ভাতা আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন
এরপর প্রিন্ট ফরমটিতে মেম্বার ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিয়ে আপনার এলাকার উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে ফরমটি জমা দিতে হবে। বয়স্ক ভাতা আবেদন যাচাই বাছাই করার পর সঠিক ব্যাক্তিদের বাছাই করে ভাতার জন্য সিলেক্ট করা হবে।
বয়স্ক ভাতা মোবাইল ব্যাংকিং
বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন অনুদান, ত্রাণ, ভাতা ইত্যাদি এখন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রদান করে থাকে। এতে করে নাগরিকদের যেমন দুর্ভোগ কমছে একইসাথে দালাল ও অসৎ ব্যক্তিদের দূর্নীতির পরিমাণও কমে আসছে।
এর জন্য যিনি ভাতা পাবেন তার নিজের এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে সিমে একটা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খুলতে হবে।
সেই মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরটি মেম্বার, চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরকে দিতে হবে।
এরপর থেকে আপনাকে বয়স্ক ভাতা টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সময়মতো দিয়ে দেওয়া হবে। আপনি পার্শ্ববর্তী মোবাইল এজেন্ট থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন।
সতর্কতা -( বয়স্ক ভাতার টাকা, সময় মতো এখন আর অনেক বয়স্ক মানুষের মোবাইলে ঠিক মতো পাচ্ছে না। জেলা শাখা অফিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে ,বা জানতে চাইলে ঠিক মতো সন্তুষ্ট জনক উত্তর দিচ্ছে না । বলে হ্যাক হয়েছে, পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করেন । তার পর আবার ও একই সমস্যা, কমপ্লেইন করা হলেও সঠিক কোন সমাধান আসছে না।
বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়ে যারা এমন টা করে, তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা উচিত নয় কি ?
সৌজন্যেঃ themidnightcrow77.blogspot.com
মন্তব্যসমূহ