Nishi’s Story - a little true story .
এদিকে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়লো, লিটা। আস্তে আস্তে আকাশ জুড়ে কালো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো, সকল আলোকিত পথ , বাতাসের শো শো শব্দে ঘুম ভাঙলো লিটার , অনেক ভয় পেয়ে গেল, কোথাও কেউ নেই, ভীষণ অন্ধকার , সে বুঝতে পারলো, এতোটা রাগ দেখানো ঠিক হয়নি। ভয়ে সে কান্না শুরু করলো। এবং বাবা ও মায়ের কথা মনে পড়তেই, আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগল। এদিকে কান্নার শব্দ পেয়ে, তেপান্তরের মাঠের অদৃশ্য গন্ডি ভেদ করে বেরিয়ে আসলো, হিরামন।.... এসে দেখে লিটা , একা বসে কান্না করছে , সে লিটা কে আগে হতে..ই চিনতো এবং জানতো। এই হিরামন যখন দিনের আলোতে কাক হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তখন এই লিটার ঘড়ের পাশের গাছটার উপর বসে, অনেক টা সময় ক্লান্তি দূর করে। সেই সময় লিটা তার খাবার হতে ,কিছুটা এনে তাকে দিয়ে যায়। খুব ভালো একটি ছেলে, এই লিটা..র শহর ভ্রমণের কথা ও, হিরামন যানে। তাই সে পঙ্খিরাজ ঘোড়া ও ব্রাহ্মণ দৈত্য কে..ও সে অদৃশ্য হয়ে থাকতে বললো । এবার সে এক বৃদ্ধ রুপ ধারন করে, তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, বললো লিটা তুমি এখানে কি করছো ? সে প্রথমে ভয় পেয়ে গেলো , তার পর বললো, তুমি আমাকে চিনো ? হিরামন বললো, হুম, তুমি আমার নাম ও জানো? হুম,
সে যাক এখন বলোতো তুমি এখানে এতো রাতে কি করছো ? লিটা সব বললো । হিরামনের খুব মায়া হলো, সে বললো ঠিক আছে, আমি যখন আছি, তোমার কোন ভয় নেই। সে বললো , শোনো লিটা তুমি এখন বাসায় চলে যাবে, আমি তোমাকে দিয়ে আসবো, লিটা বললো না, আমি এখন বাসায় ফিরবো না । অনেক ভেবে হিরামন বললো ঠিক আছে, এখন থেকে যা কিছুই হোক, তুমি কিছুই আমাকে জিগ্গেস করবে না । এমন কি তোমার বাসার কথা ও না। যদি জিজ্ঞেস করো ,তাহলে তুমি তোমার বাসায় ফিরবে।
তার পর হিরামন তার আসল রূপ ধারণ করলো, সেই সাথে পঙ্খিরাজ ও ব্রাহ্মণ দৈত্য কে দৃশ্যায়মান হতে বললো। লিটা ভয় পেয়ে ও কিছু..ই বললো না বটে, তারপর লিটা সাহস করে , একমনে তাদের সাথে মিশে যায়, সবার কাছে প্রিয় একজন হয়ে যায়। লিটা প্রাই ভুলেই গেলো , তার বাসার কথা, এদিকে খাবারের জন্য কষ্ট করতে হয় না, এই খাবারের স্বাদ,বলে বুঝানো যাবে না। কি সুন্দর দেশ, কারো কোনো সমস্যা নেই। চারিদিকে শুধু সুখ আর সুখ। কয়েক দিন হয়ে গেলো, একমাত্র লিটা..ই সাধারণ একজন মানুষ ,আর সবাই কোন না কোন ক্ষমতার অধিকারী, সে সব কিছু বুঝতে পারলো । সে কোথায় আছে, এরা কারা, এদের কার কি ক্ষমতা , যাই হোক , সে খুব আরাম আয়েশে তাদের সাথে মিলেমিশে রইলো। তার শুধু একটাই কষ্ট, যদি তার বিশেষ কোনো এক টা ক্ষমতা থাকতো।
বেশ কয়েক দিন পর, একদিন সন্ধ্যায় তেপান্তরের মাঠে ,হিরামন পাখি 🐦 যখন সবাই কে নিয়ে গপ্পো করছে, ঐ সময় একজনের কন্ঠে, এই কথাটা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেলো , (হিরামন, হিরামন, আমি তোমার বন্ধু পবন, যদি তুমি সাহায্য না করো , রইবে না কারো জিবন।)
এই বার হিরামন বললো, বলো বন্ধু কি হয়েছে? কেন তুমি এতটা পথ পাড়ি দিয়ে, আমার সাথে দেখা করতে এসেছো ? লিটা খেয়াল করলো, একটা মানুষের মতই, কিন্তু কিছুটা ভিন্ন, এই মানুষটার উচ্চতা এক ফিটের মতো, কানের কাছে একটি ছিদ্র, পায়ের পাতা গুলো,পান পাতার মতো, কেমন যেন দেখতে অদ্ভুত, তার দেশের নাম ছিল , (পবন পাতা লম্ব) ।
সেখানকার রাজা এই পবন , সে তার দেশের মানুষের সমস্যা দূর করার জন্য,হিরামনের কাছে সাহায্য চাইতে এসেছে। হিরামন সবার সামনে থেকে উঠে, পবনকে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে, তার সমস্ত কথা শুনতে লাগলো, এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে , আমাকে সে পবন পাতা লম্ব দেশে গিয়ে, সকল সমস্যার সমাধান করতে বললো। লিটা তো এইটা শুনে পুরাই অবাক, এই... টা কি করে সম্ভব, আমি ছাড়া অন্য কেউ..ই আশ্চর্য হলো না । আমার যাওয়ার সময় হয়েছে বলে,আমাকে একটি পাখির পালক দিয়ে, পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে বসতে বললো, আরো বললো যে , আমার বাবা ও মায়ের খেয়াল সে রাখবে,সে ফিরে না আসা পর্যন্ত, তোমার ভিতরে ও অনেক শক্তি আছে, তুমি আসার পর থেকে কোন প্রশ্ন করোনি, তাই আমি তোমাকে এই দায়িত্ব দিলাম , এবং তুমি তা পারবে, তুমি অবশ্যই পারবে- সবকিছুর সমাধান করতে। যদি কোন সমস্যা মনে করো , এই পালক ছোয়ালে, এবং এই পালকের নাড়া-চাড়াতেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। এই কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে পবন ও লিটা কে, পঙ্খিরাজ উড়িয়ে নিয়ে চললো। এই দিকে পবনের মা ও বাবা খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত, দুজনেই কান্না শুরু করলো, এবং মন থেকে ভেঙে পড়লো। হিরামন একটি দৈত্য কে, লিটা-র বাবা ও মায়ের দেখা - শোনার দায়িত্ব দিলেন।
এদিকে - দুই দিন এক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর, লিটা ও পবন একটি শহরে গিয়ে নামলেন ।
এই শহরের রাজা পবন , এই শহরের নাম হচ্ছে পবন পাতা লম্ব, এইখানেই ওরা বসবাস করে । ওরা পঙ্খিরাজ ঘোড়া 🐎 হতে নামতেই, চলে যাচ্ছিলো পঙ্খিরাজ, লিটা বললো,আবার কখনও আসবে, সে ও তার শরীরের লেজের একটি পালক দিয়ে বললো, এই পালক দিয়ে কানে সুরসুরি দিলেই , আমি চলে আসবো , বলে বিদায় নিলো।
এই ..টা লিটা..র, কাছে শহর মনে হলেও, এইটা কিন্তু একটা দেশ, এবং সেই দেশের রাজা পবন । লাখ লাখ ছোট্ট মানুষ, পবনের মতো দেখতে, সবাই লিটা..র দিকে ভয়ঙ্কর ভাবে তাকিয়ে আছে । সেই দেশের সবচেয়ে বড় মানুষ বলতে লিটা , সবাই তাকে সংবর্ধনা দিয়ে মহলে নিয়ে গেলো । সে এক অন্য রকম অনুভুতি, লিটা..র মন ভালো হয়ে গেলো।
সে যাই হোক, পরের দিন সকালে , শহরে ঘুরে বেড়ায় লিটা, তার নজরে পড়ে, সবুজ নেই কোথাও,মানে গাছপালা, প্রচুর পরিমাণে ধূলাবালি, মানুষের থাকার জায়গা নেই, রাস্তায় অনেকের বসবাস, নেই পুকুর,খাল, যা..ও দুই একটি নদী আছে , তার পানি ময়লা, ব্যবহারের যোগ্য না , নেই শিশুদের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, কাপড়, যত্ন , কিছু..ই আলাদা নয় , সবকিছুর যেন বড় অভাব। সেই শহরে ছিলো , অসংখ্য মসজিদ, ছিল মন্দির, ছিলো আরো অনেক ধর্মের উপাসনালয়, সেই শহরে ও ছিল কুকুর, পশু, পাখি 🐦, তাদের বসবাস এই ছোট মানুষের সাথেই, নেই কোন ভেদাভেদ, আরো অনেক পশু ছিলো, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি , কিন্তু নেই তাদের আলাদা - আলাদা পরিবেশ, বেশিরভাগ মানুষ..ই যেন দূরবল, রাস্তায় বসা এক শিশু পানির জন্য কাঁদছে, নেই কোন পানির কল, এক মা দৌড়ে এক মসজিদের কল হতে পানি আনতে গেলে, মসজিদে ঢুকতে দেয়া হলো না,কঠোর ভাবে তাকে নিষেধ করা হলো। মা..খালি বাটি হাতে ফিরে আসে, লিটা অবাক হয়ে দেখলো, আর ভাবলো হায় ,এ কোন শহর, একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো, একটি বাচ্চা শিশু রাস্তার পাশে মলমূত্র ত্যাগ করে খেলছে, নেই পানি, নেই ঘড়, নেই জামা, নেই খাবার, নেই ওষুধ, আরো জানালো শিশুটির মা নেই,বাবা ও নেই,তার চাইতে একটু বড়, তার একটি ভাই আছে। কিন্তু তাঁকে তো দেখা যাচ্ছে না,এই শহরের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না। প্রচুর যানবাহন ও নোংরা শহরের রাস্তা,ঘাট, যা..ও রাস্তার মাঝখানে কয়েকটি গাছ দেখা গেলো, নেই তার পরিচর্চা, গাছ গুলোর পাতা ইটের কালার ধারন করেছে। লিটা চিন্তায় পড়ে গেলো , আরো কিছু , প্রয়োজনীয় সে খেয়াল করলো যে, স্কুল আছে, কিন্তু নেই তাদের খেলার মাঠ, শহরের কোথাও কোথাও দুই একটি খালি জায়গা ছাড়া,সবই ভরাট, রাস্তা আছে, নেই পার্কিং ব্যবস্থা,পূরোটা শহর জুড়েই রয়েছে যানযোট, একটি জরুরী সার্ভিস,অ্যাম্বুলেন্স গাড়ি জ্যাম..এ বসে আছে। এছাড়া ও এই শহরের বাড়ি, ঘরের অভাব নেই, শুধু অভাব কিছু নিয়ম ও রাজার তৈরি আইন -শৃঙ্খলা তৈরি করে তার সঠিক ব্যবহার।
এবার তার এই শহর ও শহরের পরিবেশ সম্পর্কে একটা ধারণা হলো। তার পরের দিন সে রাজার রাজসভায় গেলো না, সেই দিন, সারাদিন সে বসে বসে শুধু ভাবলো, তার পরের দিন সে, রাজসভায় যাওয়ার আগে হিরামনের দেয়া পালক তার মাথায় ছোঁয়ালো এবং সে রাজসভায় গেলো, রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলো , কোন উপায় কি হয়েছে ? তখন সে রাজা ও রাজসভার সবাই কে সাথে নিয়ে , নতুন আইন পাস করলো , এবং এই আইন, শৃঙ্খলা বিপক্ষে যে অবস্থান করবে,তাকে দেশ-ও দশের স্বার্থে সাজা ভোগ করতে হবে।
১/ দেশের সম্পদ রাজার সম্পদ - এখন থেকে কোন জায়গা ও জমি , আর বেচা কেনা করা যাবে না ।
২/ যারা নিজ জমিতে,ঘড় , বাড়ি করেছেন, হোক সে, এক তলা হেকে -উপরে যতো তলাই , ছাদের মালিক রাজা নিজে,( সে যখন যে ভাবে প্রয়োজন ব্যবহার করতে পারবেন।
৩/ শহরের সব দোকান ও বাড়ির মালিক ও প্রতিটা গাড়ির মালিক, সপ্তাহ একটি রোড ট্যাক্স দিতেই হবে। সর্ব নিম্নতম ট্যাক্স,
৪/ শহরের কেউ যদি বাড়ি ,ঘড়, ফ্যাক্টরি, কিংবা যে কোন প্রতিষ্ঠান করতে চায়, যেখানে করতে চায় , তার জন্য রাজার পারমিশন অবশ্যই নিতে হবে। এখন থেকে চাইলেই ,যে কেউ,যে কোন প্রতিষ্ঠান যেখানে সেখানে করতে পারবে না।
৫/ শহরের কোন শিশু, অথবা যে কেউ রাস্তায় থাকতে পারবে না। শিশুদের শিক্ষা, কাপড়, যত্ন, খাবারের নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য রাজার কোন হুকুম অবহেলা যে করবে, তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
৬/ সকল মুসাফির তার নিজ নিজ উপাসনালয় রাত্রি যাপন করতে পারবেন।
৭/ সকল রাস্তায় হাফ কিলোমিটার পর পর পানি ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকবে।
৮/ সকল পথশিশুদের পরা লেখার পাশাপাশি, কাজ ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
৯/ রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
১০/ নদীর তীর ঘেঁষে শক্তি শালী জাল দিয়ে ঘিরে,মাছ চাষের উপযোগী করতে হবে। তার উপর রেস্তোরাঁ করা যাবে।
১১/ শিশুদের স্কুলের পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা সহ , খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হবে।
১২/ মসজিদের ৫ ওয়াক্ত আযান, মধুর সুরে, বলিষ্ঠ কন্ঠে, যুবকদের দায়িত্বে দেয়া , নিশ্চিত করা হবে।
১৩/ ইসলাম শিক্ষার জন্য, কোন অর্থ নেয়া হবে না। এর জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা রাজা নিজে বহন করবে।
১৪/ সকল বেকার ও যুবকদের, রাস্তায় পানি, গাছের পরিচর্যা, ও এলাকা ভিত্তিক একটি করে গার্মেন্টস ও ফ্যাক্টরির ব্যবস্থা করা হবে । রাজার নিজ দায়িত্বে এই সকল প্রতিষ্ঠান চলবে।
১৫/ প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
১৭/ মায়েদের গর্ভকালিন সমস্ত খরচ রাজা বহন করবে ।
১৮/এছাড়া ও পরবর্তী সময়ে প্রতিটি পরিবারের জন্য রয়েছে, একটি পরু ও ছাগল পালন করা বাবদ ,রাজা কৃতক বাড়তি আয়ের সুবিধা।
১৯/ আরো একটি কার্যক্রম আছে, যা রাজার সম্পদ ও দেশের মানুষের আহারের ব্যবস্থা করবে, পরবর্তীতে নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
২০/ পরবর্তিতে প্রয়োজনে আরো ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
বলে লিটা তার রাজকীয় নতুন আইন পত্র বন্ধ করলো।
রাজা পবন ও তার সভার সকল সদস্য গন , এই আইন কার্যকর করার জন্য, দেশের সকল মানুষের কাছে অতি দ্রুত, লিখিত আকারে , সকলের কাছে প্রকাশ করা হলো।
রাজা
পবন
........
তার পরের সপ্তাহ হতে, সকল কার্যক্রম শুরু হয়ে গেলো। এখন কেউ নতুন করে বাড়ি ,ঘড়, কারখানা, দোকান, বাজার করার জন্য সমানে রাজার নিকট আবেদন করতে লাগলো। যে বাড়ি করতে চায়,তাকে বলা হলো , নতুন বাড়ি তুমি এখন করতে পারবে না, কিন্তু তুমি যদি রুম বা ফ্ল্যাট তৈরি করতে চাও ? তাহলে করতে পারবে। তার জন্য প্রতি ফ্লাট বাবদ যে ট্যাক্স আসে , রাজার মন্ত্রী নিকট তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য, তার পর দিন সেই মানুষটি ৬টি ফ্লাটের ট্যাক্স দিয়ে লিটার কাছে ফিরে আসলে, লিটা পারমিশন পেপার নিয়ে, একটি তিন তলা বিল্ডিং এর মালিকের কাছে পেপার টা দিয়ে, ঐ লোকটিকে তার কাজ শুরু করতে বললেন। কিছু দিন পর তিন তলা বিল্ডিং হলো ৬তলা , ছাদের মালিক রাজা। এই ভাবে আস্তে আস্তে শহরের বিল্ডিং গুলো উপরের দিকে উঠতে লাগলো। যাদের জায়গা ছিলো, বাড়ি করবে, তারা ছাদ দিয়ে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে লাগলো। এইভাবে যারা ২/৩ কাঠা জমির উপর ২/৩,টা রুম করে ,এতো জায়গা দখল করে আছে, তাদের কে শহরের সৌন্দর্য ও রাজার হুকুমের কারনে , আস্তে আস্তে ছাদের উপর হতে উপরে উঠতে লাগলো। কিছু দিনের মধ্যেই এই শহর এখন মস্ত বড় বড় অট্টালিকার শহরে পরিণত হলো। আশে পাশে প্রচুর জায়গা খালি হতে লাগলো, যার কেনা জমি রাজাকে দিয়ে , অট্টালিকায় চলে যেতে হলো, তার টাকা রাজার রাজ কোসাগরে জমা হওয়া টাকা হতে দেওয়া হলো। এই ভাবে শহর মস্ত বড় বড় অট্টালিকার শহরে পরিণত হলো। এবার রাজার ১৯/ কার্যক্রম শুরু হলো। সকল খালি জায়গায় ধান,গম, আখ, কাঁচা সবজি সহ, গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগী পালনের অনুমতি পেল, বেকার যুবক সমাজ,প্রয়োজনে অর্থ ঋণ দিয়ে..ও সাহায্য করবে রাজা। রাস্তার পাশের খালি জায়গা এখন মাঠে পরিণত হয়েছে, সেখানে অনুমোদন পেয়েছে,বাস সিএনজির নির্দিষ্ট লোক উঠা ও নামার স্থান, এবং বয়স্ক ,ও শিশুদের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা, সেই সাথে সব সিটিং সার্ভিস । রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দেয়া হচ্ছে , অসংখ্য গাছ, এগুলোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে , রাস্তার ছেলেদের উপর, সেই সাথে পানি দেয়ার ব্যবস্থা। এই কাজটি করে তারা মাসিক কিছু টাকা পাবে ,থাকা , খাওয়া, শিক্ষা সব কিছুই হবে, রাজার রাজস্বে হতে, এই পথশিশুদের,ও যুবকদের জন্য । এবার নদীর তীর ঘেঁষে সবজি বাগান সহ, সকল প্রকারের ফুল ও ফলের গাছের নার্সারি তৈরি হচ্ছে। এবং নদীর এক পাশে দিয়ে, অনেক দূর পর্যন্ত,মোটা ও শক্ত নেটের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের মাছের চাষ করতে হবে,দেখা শোনার দায়িত্ব, বেকার যুবকদের রাজার হুকুম। কিছু দিন পর থেকে শুরু হবে রাস্তার দুই পাশ ধরে ড্রেন তৈরি সহ , রাস্তা মেরামতের কাজ,খরচ বহন করবে সকল পরিবহন, যতদিন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করার টাকা একত্রিত না হয়, প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ির হতে ন্যূনতম একটি চাঁদা ধরতে হবে, উভয় দিক বিবেচনা করে। কাজের দায়িত্বে তদারকি করবেন রাজার নিজ লোক । আস্তে আস্তে সবকিছু চালু হয়ে গেলো। রাস্তায় যুবকদের জন্য রাজার হুকুম হলো, যুবকদের চলাচলের জন্য বাধ্যতামূলক সাইকেল ব্যবহার করতে হবে।
ভেজাল খাদ্য ও ভেজাল ওষুধ, তারা কেনা - বেঁচা করবে , তাদের শাস্তি নিশ্চিত ও ক্ষমার অযোগ্য ।
এখন থেকে প্রতিটি স্কুল ও কলেজের থাকবে , খেলার নিজস্ব মাঠ, সবকিছুরই প্রক্রিয়া চলছে।
রাজা পবন এখন মহা ব্যস্ত, শহরের সকল প্রকার নির্মাণ কাজ শুরু, সাথে চাষ,বাস, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যারা রাস্তায় ছিলো,তারা এখন কাজের বিনিময়ে অট্টালিকায় বসবাস করে। শিশুদের শিক্ষা ও খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চারিদিকে সবুজ আর সবুজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাস্তা, ঘাট নির্মাণ সহ ধূলাবালির যেন না হয়,তার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর পানিতে জালের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের মাছের চাষের উপযোগী করা হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পানির কল সহ, বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বাস থামিয়ে যাত্রী,উঠাও নামানোর জন্য মাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য শহরের বিশেষ বিশেষ সুবিধা মতো জায়গায় পার্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লিটা ভাবতেই অবাক হয়ে গেল, কি ভাবে সম্ভব হলো,এতো কিছুর, এইবার বুঝতে পারলো , সব কিছুর সমাধানে রয়েছে হিরামন, হঠাৎ করেই তার মনটা খারাপ হয়ে গেলো, বাসায় কথা ভাবতেই, এখন লিটা মনে মনে ভাবলো , তার বিদায় পর্ব চলে এসেছে,তাই পবনকে শেষ বিদায় জানিয়ে পঙ্খিরাজ ঘোড়ার পালক দিয়ে কান সুরসুরি দিতেই পঙ্খিরাজ ঘোড়ার দেখা মিললো, পবন রাজা -অশ্রুসিক্ত নয়নে লিটা..কে বিদায় জানিয়ে, একটি ফুল গাছ তার হাতে উপহার স্বরূপ দিলো । তারপর বিদায় নিয়ে পঙ্খিরাজ শো শো শব্দে উড়ে চললো, লিটা পঙ্খিরাজ ঘোড়া কে জিজ্ঞেস করলো - তুমি এতো দ্রুত কিভাবে আসলে? পঙ্খিরাজ উওর দিলো , আমার দেশ এই দেশের পড়ে, মাত্র কিছুটা পথ, আবার কোন একদিন তোমাকে আমাদের দেশে নিয়ে যাবো। আজ তুমি তোমার বাসায় ফিরে যাবে, কিছু টা সময় যেতেই তেপান্তরের মাঠ দেখা গেলো, আমি প্রথম হিরামনের সাথে দেখা করে, তার পর বাসায় ফিরবো।
দেখা হলো হিরামন 🐦 পাখির সাথে, সকল কথা যেনে,সে খুব খুশি মনে, আমাকে বিদায় দিলো, সেই সাথে দিলো, অনেক অনেক হিরা ও পান্না, আর এও বললো যে, তুমি বাসায় ফেরার পর, সবকিছু ভুলে যাবে, কিছু..ই তোমার মনে থাকবে না। কিন্তু আমরা তোমার সাথে যোগাযোগ রাখবো। আর এই ফুলের গাছ..টা যত্ন করে রেখো, এই গাছের এবং ফুলের গন্ধে, তোমরা কখনো অসুস্থ হয়ে পড়বে না। বিদায় জানিয়ে পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে বসলো, এবং সবাই কে একসাথে বিদায় বন্ধু বলে, সংবর্ধনা জানিয়ে উড়ে চললো। তারপর আর কিছু..ই তার মনে পড়ে না, শুধু বাবা ও মাকে জড়িয়ে কান্না, বাবা ও মায়ের অনেক অনেক প্রশ্ন- কিন্তু নেই জানা কোন উত্তর।
সংগ্রহ
..........
ফুল ও ফুল গাছের ছবি ..টা , এই ব্লগের অন্য একটি পেইজে দেয়া আছে। (মন চাইলে দেখতে পারেন।)
মন্তব্যসমূহ