অনেক দিন আগের কথা, সময় টা ঠিক মনে নেই। অথবা আপনি বলতে পারেন , আমার মনে থাকে না। এই মনে না থাকার সমস্যাটা ছিল আমার অনেক আগে থেকেই, আমি নিজেই অনেক পরে বুঝতে পারি। যেমন ১ / বাজারে গেলে কি কি আনতে হবে মনে থাকে না। ২/কোথায় কখন যাওয়ার কথা ছিল, মনে থাকে না। ৩/ নতুন কোন বন্ধুর নাম মনে থাকে না। আরো আছে,৪/কোন জায়গায় ঘুরতে গেলাম , তার নাম মনে থাকে না।৫/কোন রাস্তা দিয়ে গেলাম সেটা ও ঠিক মনে থাকে না। ৬/ কোথায় যাচ্ছি হঠাৎ মনে করতে পারছি না। ৭/ এখন কি লিখতে বসলাম আর কি লিখবো হয়তো ,একটু পরেই মনে করতে পারবো না। কিন্তু এমন..ও আছে , যা আমার মনে রাখার কথা না , তাই আমার মস্তিষ্কে ধারণ করে রেখেছে। ইচ্ছা করে

এই কাজ আমি করি না । একমাত্র আমার প্রিয় মানুষ ছাড়া , ভুল বললাম কাছের বন্ধু ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না। যেমন: - এই মুহূর্তে একটি ঘটনা মনে পড়ছে , সেই ঘটনাটাই বলি , একটি বলতে গেলে , আর একটি চলে আসে । তাই অনেক সময় বুঝতে পারি না, কোনটা দিয়ে শুরু করাবো । সংক্ষেপে বলি , হঠাৎ করেই কোন এক নির্দিষ্ট সময়ের কিছু ঘন্টা আগে মনে হলো, এইবার প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনে অন্যরকম কিছু একটা করবো , ভাবতে লাগলাম, সব বাদ দিয়ে শুধু জন্মদিন, ভাবতে লাগলাম। যেন ভুলে না যাই । যেখানেই যাই, শুধু জন্মদিন নিয়ে ভাবতে থাকি। এমন সময়, একটি বন্ধুর সাথে কোন এক প্রয়োজনে ,কেরানীগঞ্জের পশ্চিমে, অনেক..টা ভিতরে চলে যাই,রাত হবে আনুমানিক ৭টা, যতদুর মনে পরে- সাথে আমার দুইটি স্কুলের বন্ধু ছিল , একটার ডাক নাম ছিল ডাবলা ,আর একজন কসাই টুলির, নাম নাসির, নাসির কে নিয়ে একটু বলি, ও খুব ভালো একটা ছেলে ছিলো। আমার খুব ভালো লাগতো। আমরা প্রায়ই সময় একসাথে বসতাম ক্লাসে, এবং সুযোগ খুঁজতাম কখন কি করে স্কুল পালানো যায়। আমার খুব ভালো একটা বন্ধু ছিল। । এখনো ওর কথা মনে পরে । মনে পরে , কোন এক দিন আমি স্কুলে যাইনি , তার পর দিন যখন স্কুলে গেলাম, জানতে পারলাম আজ স্কুল ছুটি। খুব খুশি হলাম, এবং ওর কথা ভাবতে লাগলাম। আর ভাবলাম আজকে কেন নাসির আসলো না। অনেক ভালো লাগতো আজকে যদি ঐ আসতো। যাই হোক প্রথম ক্লাসে জানিয়ে দেয়া হলো এই যে, আজকে কেন ছুটি। নাসিরের শরীরে অনেক জ্বর সহ কিছু একটা হয়েছিল,যার কারণে ঐ মারা যায়। তাই আজ স্কুল ছুটি। আমি থ " হয়ে যাই। আর কিছু আমি বলতে চাই না। যাই হোক , আমার স্কুল হতে নাসিরের বাসায় যেতে ৫/৭ মিনিট সময় লাগতো। নাসিরের বাসায় গিয়ে , অনেক দুরের একজন মানুষের মতো সবার সাথে দারিয়ে থাকলাম।আর ভাবলাম ঐ..যে ছেলেটা শুয়ে আছে,ও আমার বন্ধু ছিল । ঐ যদি আজকে বেঁচে থাকতো, হয়তো সবার আগে, আমার কাঁধে হাত রাখতো। কিছু একটা বলতো। যাই হোক যানতে পারলাম , প্রচন্ড জ্বর ও প্রেসারের কারণে মাঝরাতে মারা যায়, হাসপাতালে ও নেয়া হয়েছে, এবং ঐ..খানেই মারা যায়, আমার বন্ধুটা, আমার ঘরের পাশেই, আমার খুব কাছেই, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অথচ আমি... জানতে ও পারলাম না। যাই হোক, জানাযা শেষে চলে আসি। কবর দেয়ার শক্তি ও সাহস আমার ছিল না। ভুলে গেছি কোথায় যেন ছিলাম? হূম মনে পড়েছে , তার পর ডাবলা বাসায় চলে যায় ,ওর বাসা কাছেই ছিল। আমি আর আমার ঐ বন্ধু- কিছুক্ষণ পরে আসছি, বলে থেকে গেলাম। মূল কারণ..টা ছিল আমার, দেখলাম অনেক জোনাকি পোকা , এই গঞ্জে। তাই মাথার মধ্যে অন্যরকম একটা ভাবনা খেলে গেল। আমি আর নাসির ২জনে মিলে একটা ছোট্ট একুরিয়াম বোতলে, দুই বন্ধু অনেক সময় নিয়ে , জোনাকি পোকা ধরে ধরে, বোতলে রাখতে লাগলাম। অনেক অনেক ধরেছিলাম। এবং নিয়ে ও আসলাম। ভেবেছিলাম আমার ঐ বন্ধু কে বলবো, আমার দেয়া জন্মদিনের উপহার টি যেন অন্ধকার ঘরে খোলা হয় । ইচ্ছে ছিল - এবারের জন্মদিনে অন্ধকার ঘরে অজস্র জোনাকি পোকা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর। কিন্তু ঐ যে সব ভুলে যাই ..., তাই অনেক ভেবে ও মনে করতে পারলাম না যে, ঐগুলো কার জন্য এনেছি। তাই অনেক রাতে নিজ হাতে ঐ জোনাকি পোকাগুলো , আমি একাই ছেরে দেই , অনেক অনেক উঁচুতে ,ধরি ১১তলা সমান, হতে ও আরো একটু উঁচুতে, অনেক রাতে, আমি আকাশ আর অজস্র - অজস্র তাঁরা, আর কিছু জোনাকি পোকা। ( অজস্র জোনাকি পোকা এবং একটি মনে, না থাকার গল্প)
মন্তব্যসমূহ