কি দিয়ে যে শুরু করি , ঠিক বুঝতে পারছিনা। যাই হোক ছেলে টির নাম কাব্য ,বয়স ১২ / ১৩ , কাব্য এখন ক্লাস ৫ পড়ে। মোটামুটি ধরনের মাথা , তার এখন অনেক পড়া , স্কুল ও স্কুল কোচিং, বাসার প্রাইভেট, স্কুল ও বাসার পড়া কমপ্লিট করে , একটি ছোট্ট ঘুম,তার পর খেল

তে যাওয়া। দুপুরে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। বিকেলের আযান শুনে ঘুম ভাঙলো, উঠে দেখি বাসায় কেউ নেই, এক আমি ছাড়া, এদিকে মাঠের কথা মনে পড়ছে, এই বুঝি ২ দলের ভাগ হয়ে গেল, এখন বুঝি খেলা শুরু হলো। আরে ফুটবল খেলার কথা বলছি , আর ভাবছি মা আমাকে এই ভাবে তালা মেরে নিশ্চয়ই (হলে - মানে সিনেমা হলে) ছবি দেখতে গেছে । এই রকম প্রাই হয়। ভাবছি আসতে আসতে - ৬.৩০ , ঘরের একটি মাত্র জানালা , তার ভিতর দিয়ে পা ঢুকিয়ে বাহিরের মানুষের আসা ও যাওয়া দেখতাম। কি আর করবো? তখন একটি মেয়ে কে প্রাই দেখতাম, কেমন করে যেন হেঁটে হেঁটে চলে, এবং তার হাঁটার শব্দ হতো। তার হাঁসি.. টা আমার ভালো লাগতো । তার চোখ দুটি ছিল পরিষ্কার জ্বল জ্বলে, নাক টা ছিল ছোট্ট একটি আইসক্রিমের কাঠির মতো, সমস্ত মুখ টা ছিল , ছোট্ট একটি ছানার গোল সন্দেশ এর মতো , যাই হোক সব মিলিয়ে আমার ভালোই লাগতো। তার পর হতে প্রাই দেখতাম এবং দেখা হতো। হঠাৎ করেই তালা খোলার শব্দ। মা এসেছে , সাথে তার ছোট বোন, তার পর সন্ধ্যার নাস্তা এবং ছবির পূর্ণাঙ্গ স্টোরি নিয়ে আলোচনা। এদিকে কাব্য মন খারাপ, খেলা সেই কখন শেষ। হলো ..না খেলার ছলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া। যাই হোক এখন পড়তে হবে । যেই পড়তে শুরু করলাম অমনি মা বলে বসলো, যখনি দেখি তুই শুধু পড়া নিয়ে থাকিস, লেখার কোন নাম গন্ধ নাই , এখন লেখতে বসো। আমার মা..টা এমনি -, লেখতে বসলে বলে পড়, আর পড়তে বসলে বলে লেখ, এই ভাবেই চলতে লাগলো কাব্যের সময় , এখন কাব্য ক্লাস অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। এখন প্রাই ..সে স্কুল পালায় , পড়া কমপ্লিট হয় নাই , অথবা পড়ায় মন বসতে চায় না , তাই । এতদিনে সন্দেশ বুঝতে পেরেছে, আমি তাকে খেয়াল করি অথবা পছন্দ করি। তার পর হতে সে কি ভাব , বলে বুঝাতে পারবো না। তার পর...শুরূ হলো চিঠি আর চিঠি, একের পর এক চিঠি দিয়েই যাচ্ছি, তার কোন উওর নেই। তার পরের ৫ বছর পর - মেট্রিক পরীক্ষা আর দেয়া হলো না। একমাত্র নারী নির্যাতন মামলা ছাড়া ,সব ধরনের মামলা সহ কিছুদিন জেলে ও থাকতে হয়েছে, কিন্তু কোন বাজে কাজ আমি করি নাই। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নেশা ও করতে হয়েছে, নিজের ক্ষতি হয়েছে, তবুও আমার দ্বারা কারো ক্ষতি হয় নাই। তবে বেকার ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় এলাকা ভিত্তিক নাম এখন থাকে কাব্যের। এদিকে সন্দেশ এর কোন পাত্তাই নাই -কাব্যের জন্য , কাব্য একদিন জানলো, ছায়া এখন অনেক সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয় । কাছের দুই, একজন বন্ধু কে নিয়ে ও না কি ?
ভাবে, তার মাঝে কাব্যের নাম নেই। তাই কাব্য একদিন ভাবলো , ভালোবাসলেই যে পেতে হবে এমনটা কেন? আমি অন্য ভাবেও ভালোবাসতে পারি? তা ছাড়া আমি যদিও জোর করে কিছু একটা করি, তার নাম নিশ্চয়ই ভালোবাসা নয় । আর আমার পছন্দের মানুষকে যদি আমি- জীবনে আনন্দ অথবা সুখি করতে না পারি , তাহলে আমি অনেক কষ্ট পাবো। তার পর আমি বখাটে, নেশা করি, পড়া লেখা করি নাই, বিভিন্ন মামলায় জড়িত, বাবার অনেক টাকা পয়সা ও নাই , কি করে চলবে সংসার। সব ভেবে আর ছায়া কে কাছে পেতে চাই লাম না। তার চেয়ে ভালো হবে যদি অন্য কোথাও ভালো থাকে। তবে দেখার ইচ্ছা আমার ঠিক...ই ছিল , ছায়ার বড় বোন আমার বন্ধুর মতো ছিল। এবং আমাকে ভালো..ও বাসতো, ভদ্র ও ছিল, সুন্দরী ও ছিল, তাই ভাবলাম ওকে বিয়ে করে , ছায়া কে শালি বানাবো এবং, খুব কাছে থেকে ওকে দেখবো , অন্তত দেখার ইচ্ছা টা তো পূরন হবে। পরের ৩ বছর কিন্তু তা আর হলো না,সব চেঞ্জ হয়ে গেলো, কোন কিছুই আর ভাবনা মতো করে হলো না । এখন ..........সব ভুলে গেছি, কোন নেশা করি না, কোন মামলা ও নেই , ছোট্ট একটি ব্যবসা আছে, এখন আমার একটি সংসার আছে। আমার সন্তান আছে এবং আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই ভালো আছি। শুধু নেই ... ছানা (গল্প সংগ্রহ)
মন্তব্যসমূহ